ফেসবুক পেজ প্রমোশনের ৫ টি কৌশল

অনলাইন ব্যবসা খুবই জনপ্রিয় বর্তমানে।

গতানুগতিক দোকানে গিয়ে পণ্য কেনার মধ্যে স্মার্টনেস ভাবটা তুলে ধরা কঠিন। স্মার্ট ফোন হাতে নিয়ে কাস্টমার স্মার্ট ভাবেই কেনাকাটা করতে চাইবে, স্বাভাবিক। করোনা ভাইরাসের কারণে অনলাইন বিজনেসের পসরা বহুগুনে বেড়ে গেছে।

অনলাইন বিজনেসের কথা আসলে, “ফেসবুক” শব্দটি অটোমেটিক ভাবে মাথায় চলে আসে।

ফেইবুকের চেয়ে সহজ আর সস্তা মাধ্যম আর একটিও নেই অনলাইন বিজেনেসের জন্য।

ফেইসবুকে একটা বিজনেস পেইজ খুলা মিনিটের ব্যাপার। পেইজ খুলার সাথে সাথে ব্যবসা স্টার্ট!

ফেসবুকে একটা পেজ খুলা আর ব্যবসায় লাভ করার মধ্যে আকাশ পাতাল পার্থক্য। ফেসবুকে প্রায় ৬০ মিলিয়নের ও বেশি বিজনেস পেজ আছে। এত এত পেজের মধ্যে আপনার পেজকে হাইলাইট করা অনেক কঠিন।

ফেসবুক ব্যবহারকারীরাও অতিষ্ঠ যত্রতত্র এডের কারণে। তাই ফেসবুক কর্তৃপক্ষ “ফেসবুক বিজনেস পেজের” রিচ অনেক কমিয়ে দিয়েছে।

২০১২ সালে ফেসবুক পেজে কোন পোস্ট দিলে সেটা ১৬% ফলোয়ারের নিউজফিডে যেত। ২০১৪ সালে তা নেমে এসেছিল ৬.৫% আর সর্বশেষ ২০১৮ সালে মাত্র ২%। আজকের ফেসবুক মার্কেটিং অনেকটা প্রতিযোগিতামূলক। পকেটের টাকা খরচ না করে কাস্টমারের দৃষ্টি আকর্ষণ করা খুবই কঠিন। তবে কিছু কৌশল সঠিকভাবে ব্যবহার করলে, যেকোন ফেসবুক পেজের রিচ বাড়ানো যাবে।

ফেসবুক পেজ প্রমোশনের ৫টি কৌশলঃ

১) ইউজারনেম সেট করাঃ ফেসবুক কর্ত্বপক্ষ ব্যবহারকারীদের সুবিধার্থে এই ফিচার চালু করেছিল। পেজের মূল নাম অনেক সময় একটু বড় থাকে। ব্যবহারকারীরা বড় নাম টাইপ করে সার্চ করতে বিরক্ত বোধ করেন। এই জায়গায় ইউজারনেম কাজে লাগে।

পুরো পেজের নাম সার্চ না করে শুধুমাত্র ইউজারনেম দিয়ে সার্চ করলেই, কাঙ্খিত পেজ চলে আসবে। ব্যবসার ধরনের উপর নির্ভর করে সহজেই বোধগম্য ছোট কিওয়ার্ড দিয়ে ইউজারনেম সেট করতে হয়।

উদাহরণঃ একটি শিক্ষামূলক পেজ- “বিসিএস প্রস্তুতি এপ Hello BCS”। এই পেজের মূল কীওয়ার্ড হল “Hello BCS”। তাহলে এর পেজের ইউজারনেম হবে @hellobcs।

ইউজারনেম ইংরেজীতে এবং ছোট হাতের অক্ষরে হবে।

ফেসবুক পেজে ইউজারনেম কীভাবে সেট করবেন?

প্রথমে, আপনার ফেসবুক পেজে যান। সেখান থেকে বামপাশে মেনুতে ক্লিক করুন।

মেনু থেকে “Edit Page Info” তে ক্লিক করলে ইউজারনেম সেট করার বক্স চলে আসবে।

বিশেষ সতর্কতাঃ ইউজারনেম কেবল একবারই পরিবর্তন করা যায়। এবং শুধুমাত্র পেইজ এডমিন এটা করতে পারেন।

২) কাস্টম URL তৈরি করাঃ ইন্টারনেটের দুনিয়ায় আপনার পেজের ঠিকানাকে বলা হয় URL (Uniform Resource Locator) । সহজ বাংলায় আমরা কোন কিছুর লিংক বলতে যা বুঝি সেটাই URL।

খেয়াল করলে দেখবেন, আপনার ফেসবুক পেজের লিংক কপি করলে সেই এড্রেস টা অনেক বড় হয়ে যায়। এই বড় এড্রেস দেখতে খারাপ লাগে। ইউজাররা বিরক্ত হয়ে হয়ত আপনার শেয়ার করা লিংকে ক্লিক না ও করতে পারে! এর সহজ সমাধান হল, লিংক কপি না করে নিজেই লিংক বানিয়ে নিন!

কীভাবে Custom URL বানাবেনঃ

কাস্টম URL বানাতে ইউজারনেম লাগবে। ধরলাম আমার পেজের ইউজারনেম @hellobcsbd।

তাহলে আমার পেজের Custom URL: www.facebook.com/hellobcsbd.

www.facebook.com/ এর পরে পেজের ইউজারনেম দিলেই একটা সুন্দর Custom URL তৈরি হয়ে যাবে। ইউজারের কাছে দেখতে ভালো লাগবে। ফলে পেজের লিংক ভিজিট হবে বেশি।

৩) ফেসবুক পেজে প্রোডাক্ট বা সার্ভিস ট্যাব এড করুনঃ ফেসবুকে ব্যবসা করতে হলে হয় আপনি পণ্য বিক্রি করবেন অথবা সার্ভিস (সেবা) দিবেন। আপনি যে ধরনের ব্যবসা করেন সে অনুযায়ী ট্যাব এড করবেন।

কীভাবে ফেসবুকে পেজে প্রোডাক্ট বা সার্ভিস ট্যাব এড করবেনঃ

  1. Tap Pages.
  2. Go to your Page and tap More.
  3. Tap Edit Page > Tabs > Add a Tab.
  4. Tap Services, then tap Tabs again.
  5. Scroll to the bottom and tap Services.
  6. Tap Edit > + Add service.
  7. Enter info about your service, then tap Save.

এভাবে আপনি আপনার পেজের জন্য সার্ভিস বা প্রোডাক্ট ট্যাব যোগ করতে পারবেন।

খেয়াল রাখতে হবে, ফেসবুক পেজে ১০ টির উপরে প্রোডাক্ট এড করা যায় না।

তাই পণ্য বেশি হলে, একটা সময় পর পর আলাদা আলাদা পণ্য যোগ করে দিতে পারেন।

 এই ফিচারটি আপনার পেজের মান ফেসবুক এলগোরিদমের কাছে বাড়িয়ে দিবে। যার ফলে ফেসবুকে আপনার পেজ সম্পর্কিত কোন সার্চ রেজাল্টে আপনার পেজের নাম উপরের দিকে আসবে।

(৪) ভিডিও পোস্ট করা শুরু করুনঃ একটু খেয়াল করলে দেখতে পারবেন ফেসবুকে যত বিজনেস পেজ আছে, সবাই বিভিন্ন ডিজাইনে ছবি বানায়।

নজর কাড়া ছবি গুলো আসলেই ভালো একটা প্রভাব ফেলে।

কিন্তু নজর কাড়া জিনিস যখন খুব বেশি নজরে আসে, তখন সেটা আর নজর কাড়া থাকে না।

আপনি আপনার প্রতিযোগিদের পেজ গুলো ভিজিট করেন। আপনার পেজ আর তাদের পেজের পার্থক্য গুলো বের করেন। যারা ভিডিও মার্কেটিং করে তারা আজ অনেকটাই সফল। ক্রেতারা যেটা দেখে সেটা বিশ্বাস করে।

আপনি আপনার পণ্যে কি আহামরি স্পেশাল ফিচার দিচ্ছেন সেটাতে কারো আগ্রহ নেই।

আপনার পণ্য ক্রেতার জীবনে কিভাবে প্রভাব ফেলবে সেটাই দেখার বিষয়। এই বিষয় টা একটি ছোট ভিডিও এর মাধ্যমে সহজেই উপস্থাপন করা যায়। একটা উদাহরণ দেয়া যাক।

করোনা মহামারীতে অনলাইনে চায়ের দোকানদারদের সংখ্যা বেড়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছেলে-মেয়েরা ফেসবুকে পেজ/গ্রুপ খুলে সহজেই কুরিয়ার ডেলিভারীর মাধ্যমে চা-পাতা পৌছে দিচ্ছেন দেশের ভিন্ন ভিন্ন জায়গায়।

যদিও অধিকাংশ উদ্যোক্তারা সঠিক নিয়ম কানুন, আইন মেনে ব্যবসা করছেন না। আচ্ছা সে কথা যাক।

এই পেজগুলোতে কিন্তু ভিডিওর সংখ্যা একেবারেই কম, শতকরা ৯০ ভাগে একটাও ভিডিও নেই।

শুধুমাত্র চায়ের কাপের ছবি, চা-পাতার ছবি।

চায়ের কাপে যে চা থাকে সেটা ক্রেতারা আগে থেকেই জানেন। সেটা তাদেরকে নতুন করে জানান দেয়ার কিছু নেই। এই জায়গায় হয়ত একটা ভিডিও হতে পারত।

ফুটন্ত পানিতে চায়ের দানা।

কেটলি থেকে কাপে চা পড়ার কলকল শব্দ।

চায়ে চিনি মেশানোর সময় টুং টাং আওয়াজ।

ব্যস! এই ভিডিও করতে কারো প্রফেশনাল ভিডিও গ্রাফার লাগবে। ১০ মিনিট লাগবে বড়জোর।

তারপরে কিছু ইডিট, যেখানে চায়ের শব্দের সাথে মানুষদের ইমোশন গুলো দেখানো হবে। এডিটিং এর কাজ গুলো হয়ত দক্ষ লোক দিয়ে করা লাগতে পারে। তার জন্য ফ্রিলান্সার রা বসেই আছে। ২-৩ ডলারেই এই কাজ সম্ভব।

(৫) পেজের নামে কীওয়ার্ড যোগ করুনঃ সবচেয়ে শেষ পয়েন্টে সবচেয়ে বেসিক জিনিসটাই আলোচনা করব।

একটা পেজ শুরু হয় তার নাম দিয়ে। পেজের নাম শুধু একটা নাম না, এটা একটা ব্র্যান্ড। নামটা যাতে পণ্য বা সেবার সাথে সম্পর্কিত হয়।

নামটা শুনেই যাতে একজন ক্রেতা আপনার পণ্য বা সেবা সম্পর্কে একটা ধারণা পেয়ে যায়।

যাইহোক পেজের নাম ঠিক করলেন, এখন আপনার পেজ তো সবাই চিনে না। তারা যখন পণ্য সার্চ করবে, তখন পণ্যের নাম সার্চ বক্সে লিখবে।

যেমনঃ কেউ ফেসবুকে চা-পাতা কিনতে চাইলে সার্চ করবেঃ চা-পাতা অনলাইন, Tea online. মোদ্দাকথা পণ্যের নাম দিয়ে সার্চ করবে যাতে ঐ পণ্য সম্পর্কিত কোন একটা অনলাইন পেজ আসে।

এখন কথা হল ফেসবুক তো আর মানুষ নয়। সে সার্চ রেজাল্ট দেখাবে ব্যবহারকারীর লিখা শব্দগুলো ভিত্তি করে।

একটা ফেসবুক পেজের নাম “Nirzassh নির্যাস”। চা-পাতা অনলাইনে সেল করে পেজটি। নামটা তাদের ব্যবসার সাথে খুবই সম্পর্কিত। প্লাস পয়েন্ট।

কিন্তু সমস্যাটা হল, দুনিয়ার তাবৎ মানুষ তো জানে না নির্যাস নামে একটি ফেসবুক পেজ আছে, যেখানে ভালো মানের চা-পাতা পাওয়া যায়।

তাই কেউ নির্যাস নামে সার্চ ও দিবে না। ফেসবুক আপনাকে ওই পেজ দেখাবেও না।

এই পেজে যদি নির্যাস নামের সাথে চা-পাতা বা চা সম্পর্কিত শব্দ জুড়ে দেয়া যায়, তাহলে কিন্তু ব্যবহারকারীরা যখন এই পণ্য নিয়ে সার্চ করবে তখন এই পেজটা সার্চ রেজাল্টে আসার সম্ভাবনা অনেক বেশি।

এই ৫ টি কৌশল অবলম্বন করলে সহজেই যেকোন ফেসবুক পেজের রিচ বাড়ানো যাবে।

Useful Resources:

 Facebook Pages: Create your business presence on Facebook | Facebook for Business

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *